"Understanding
LEED Certification" শীর্ষক ওয়েবিনার
সফলভাবে অনুষ্ঠিত
ছবি: থিম সহ ওয়েবিনার চলার মুহূর্ত
"Sharing
Knowledge, Advancing Humanity" এই
প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৩১ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭:৩০টা থেকে ৯:০০টা পর্যন্ত "Understanding
LEED Certification" শীর্ষক একটি জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবিনার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভবন নির্মাণে
LEED (Leadership in Energy and Environmental Design) Certification-এর গুরুত্ব, মূল্যায়ন পদ্ধতি, বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা এবং বাস্তব প্রয়োগ বিষয়ে ওয়েবিনারে
বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরিবেশবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং নির্মাণ খাতের পেশাজীবীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
ওয়েবিনারের মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মোঃ
আল-ইমরান হোসাইন, যিনি বাংলাদেশ
গ্রীন বিল্ডিং একাডেমী-এর প্রধান নির্বাহী এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ LEED
AP। তিনি LEED Rating System, Green Building
Design, Energy Efficiency, Water Conservation, Indoor Environmental Quality,
Materials & Resources, Carbon Reduction এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রিন বিল্ডিং বাস্তবায়নের
বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনা প্রদান করেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের
বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন স্থপতি ও পরিবেশবিদ মোঃ মাহামুদুর
রহমান পাপন, সাধারণ সম্পাদক, পরিবেশবিদ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ (B.I.E)। তিনি টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো
নির্মাণে LEED Certification-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে গ্রিন বিল্ডিং
চর্চা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, ওয়েবিনারে নিবন্ধন থেকে প্রাপ্ত সকল অর্থ
বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায়
ব্যয় করা হবে। অনুষ্ঠিটি যৌথভাবে
আয়োজন করে পরিবেশবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (B.I.E), বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (IAB)
- চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার এবং বাংলাদেশ
গ্রীন বিল্ডিং একাডেমী (BGBA)। ওয়েবিনারটি
বাস্তবায়নে টেকনিক্যাল সাপোর্ট সহ সর্বাত্বক সহযোগিতা প্রদান করে 3C
Engineering & Research, Environmental Design and Research Consultancy
(EDRC), এবং GEM Consultants Limited।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (IAB)-চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব ফজলে ইমরান
চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ভবন নির্মাণে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী নির্বাচনকে
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী
নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ধীরে ধীরে পরিহার করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ইট, টাইলসসহ ভবনে ব্যবহৃত প্রতিটি নির্মাণসামগ্রীর উপাদান, উৎপাদন প্রক্রিয়া, পরিবেশগত প্রভাব এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে স্থপতি ও
নির্মাণসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তিনি আরও বলেন, নির্মাণসামগ্রী নির্বাচনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই একটি ভবনের
পরিবেশগত কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই
টেকসই ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতনতা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপযুক্ত
নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, টেকসই স্থাপত্যচর্চা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকে আরও গতিশীল
করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এ ধরনের পেশাগত প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়েবিনারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে
আশ্বাস প্রদান করেন। পরিশেষে তিনি অনুষ্ঠানের মূল বক্তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন
করেন এবং উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি
ঘোষণা করেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন