পরিবেশবিদদের বাদ দিয়ে কোনো পরিকল্পনাই টেকসই হবে না
সেমিনারে অংশগ্রহনকৃত বেশিরভাগ পরিবেশবিদরা বিশ্বাস করেন, নগরায়নের
কারণে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের চাপে শহরগুলোতে সবুজ পরিবেশের
অবক্ষয় একটি সাধারণ ঘটনা। তবে শত উন্নয়নের মাঝেও শহরে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনার
মাধ্যমে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার না, বরং মানুষের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকেও
উন্নত করা সম্ভব।
মূল বক্তা তার উপস্থাপনে শহরে সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে
বলেন, শহুরে জীবনের চাপে ক্লান্ত মানুষদের জন্য উদ্যান, পার্ক এবং সবুজ এলাকা মানসিক
স্বস্তি এনে দেয়। আবার গাছপালা এবং উদ্ভিদ বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে
এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে। ফলে শহরের বায়ু মান উন্নত হয় এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঝুঁকি
কমে। তাছাড়া গাছপালা এবং সবুজ স্থান শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে। সমগ্র পৃথিবীর জলীয় বাষ্পের ১০% বায়ুমন্ডলে ট্রান্সপিরেশন প্রক্রিয়ার
মাধ্যমে পাওয়া যায় যা বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
যা শুধুমাত্র উদ্ভিদের মাধ্যমেই সম্ভব। সবুজ ছাদ এবং পার্কগুলো শহরের "হিট আইল্যান্ড"
প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
মূল বক্তা শহুরে পরিবেশে প্রকৃতিকে পুনঃপ্রবর্তনের জন্য অসংখ্য
কৌশল বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এই কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে সবুজ অবকাঠামো
নির্মাণ, বন এবং সবুজ স্থান সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য-বান্ধব ল্যান্ডস্কেপ তৈরি করা, জল
ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং টেকসই নগর পরিকল্পনা অনুশীলন করা। উপরন্তু, সরকারী ও বেসরকারী
সংস্থা, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন কৌশলের বাস্তবায়ন যেমন সবুজায়ন
নীতি প্রণয়ন, প্রণোদনা প্রদান, শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচী প্রদান এবং পরিবেশগত
প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন প্রচার এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ।
আজ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বিশ্ব, যেখানে গাছ লাগানো একটি
শক্তিশালী সমাধান। গাছ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, জীববৈচিত্র্যকে লালন
করতে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে, CO2
শোষণ করতে, ভূগর্ভস্থ জলের মজুদ বাড়াতে, বায়ু ও জলের গুণমান উন্নত করতে এবং মাটির
ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
"প্রকৃতিকে শহরে ফিরিয়ে আনা" উদ্যোগটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শহরের প্রতিটি কোণে প্রকৃতির ছোঁয়া ফিরিয়ে আনা এবং
বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সবুজ পরিবেশ তৈরি করা। "প্রকৃতিকে শহরে
ফিরিয়ে আনা" উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি শৌখিন প্রয়াস নয়, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ
প্রজন্মের জন্য একটি জরুরি প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন পরিবেশ পরিকল্পনা যা পরিবেশবিদদের
দ্বারা সাধিত হয়। পরিবেশ বাদ দিয়ে কোনো পরিকল্পনাই টেকসই ও জনবন্ধন হবেনা। ভবিষ্যতে
চাকরীর বাজারেও যেন এর প্রভাব পড়তে পারে সেই লক্ষ্যে পরিবেশবিদ ক্যাডার এবং পরিবেশবিদ
পরামর্শক তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এটি শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং
মানুষের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রকৃতি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং শহরগুলোতে প্রকৃতির উপস্থিতি নিশ্চিত
করার মাধ্যমে আমরা একটি টেকসই এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের সকলের
উচিত এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা এবং শহরগুলোকে আরও সবুজ, স্বাস্থ্যকর
এবং বাসযোগ্য করে তোলা। শুধুমাত্র তখনই আমরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে
সত্যিকারের শান্তি এবং সুস্বাস্থ্য অর্জন করতে পারব। মরুকরণ রোধ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য
রক্ষার জন্য বৃক্ষ রোপণ অপরিহার্য।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন